১৬ সেপ্টেম্বর ২০১০ - ১৯:৩০

পাকিস্তানের পারাচেনার অঞ্চলের শিয়াদের উপর তাকফিরী (অন্যান্য মুসলিম মাযহাবের অনুসারীদেরকে কাফের আখ্যায়িতকারী) তালেবান জঙ্গিদের হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা তালেবান অধ্যুষিত কয়েকটি গ্রামের মাঝে অবস্থিত একটি শিয়া গ্রামকে ঘেরাও করে তীব্রভাবে হামলা চালিয়েছে। ফলে ২৫ জন শিয়া শাহাদত বরণ করেছে এবং অপর ৮০ জন গুরুতর আহত হয়েছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: পারাচেনার অঞ্চলে শালুযান পাহাড়ী এলাকায় অবস্থিত খাইওয়াজ শিয়া গ্রামে জঙ্গি সন্ত্রাসী বাহিনী ও তাকফিরী তালেবান বিভিন্ন অত্যাধুনিক অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এ অঞ্চলে বসবাসরত শিয়াদের উপর হামলা অব্যাহত রেখেছে।

মজার বিষয় হলো যখনই তালেবান আগ্রাসীরা শিয়া রক্ষীদের মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয় তখনই সরকারী বাহিনী শিয়া রক্ষীদের অবস্থানকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ এবং গুলি চালিয়ে জঙ্গিদের সহযোগিতা করে!

গত বুধবার (১৫ই সেপ্টেম্বর) রাতে ৮ জন শিয়া –যারা হাইওয়াজ গ্রামের রক্ষার দায়িত্ব পালন করছিলেন- শহীদ হয়েছেন। এর সাথে সাথে বিগত দুই সপ্তাহ যাবত অব্যাহত সংঘর্ষে শহীদ হওয়া শিয়াদের সংখ্যা ২৫শে এসে দাঁড়িয়েছে এবং ৮০ জন শিয়া আহত হয়েছে যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

হাইওয়াজ শিয়াদের নিকট হতে প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে তারা বিশ্বের শিয়াদের কাছে তালেবান এ উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাত থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য মহান আল্লাহর দরবারের দোয়ার করার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে উক্ত অঞ্চলের শিয়া আলেম ও নেতাদের উপস্থিতিতে গত বুধবার পারাচেনার শহরে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজিত হয়েছে। যাতে বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘদিনের অনিরাপত্তা দূর করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় এবং পারাচেনারের দিকে আসা সকল পথকে উন্মুক্ত করা ও এ অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের আক্রমন হতে রক্ষা করার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

যদি সরকার সন্ত্রাসীদের পক্ষপাতিত্ব ও তাদের সহযোগিতা হতে বিরত থেকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করে তবে শিয়ারা সন্ত্রাসীদের পথে বাধা সৃষ্টি ও তাদের গ্রেপ্তারের জন্য সরকারকে সহযোগিতা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এ সম্মেলন উপস্থিত ব্যক্তিত্বগণ।

সম্প্রতি সংঘটিত সংঘর্ষ

নতুনভাবে সংঘর্ষ তখন সৃষ্টি হয়েছে যখন গত ২ সপ্তাহ পূর্বে তালেবান জঙ্গিরা শালুজান অঞ্চলের উপর দৃষ্টি রাখা যায় এমন একটি উঁচু পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে উক্ত অঞ্চলের উপর গুলি চালায়। এরপর শিয়ারা তাদের অবস্থানের উপর হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন জঙ্গিকে হত্যা করতে সক্ষম হয় এবং তাদের দু’টি ঘাঁটিকে দখল করে নিতে সক্ষম হয়।

এ সংঘর্ষে মহিলা ও শিশুসহ মোট ১৭ জন শিয়া শাহাদত বরণ করেন এবং শত্রুদের উপর্যপুরি গুলিবর্ষণে কয়েকটি মসজিদ, ইমামবাড়ী ও বাসগৃহ ধ্বংস হয়ে গেছে। এ সময় উক্ত অঞ্চলের লোকের মহিলা ও শিশুদেরকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।

পাকিস্তানের অফিসিয়াল সূত্র জানিয়েছে যে, আগ্রাসী তালেবান জঙ্গি ও আত্মরক্ষী শিয়াদের মাঝে সৃষ্ট সংঘর্ষে ২৪ তালেবান নিহত হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তালেবান অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহ হতে তথ্য সংগ্রহ করা দুঃসাধ্য হওয়ার কারণে তালেবান জঙ্গিদের নিহত ও তাদের আহতদের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

শত্রু সৈন্যদের সহযোগিতা

দুঃখজনকভাবে পাকিস্তানী সৈন্যরা শিয়া বিরোধী সন্ত্রাসীদের পক্ষপাতিত্ব করে পাকিস্তান বিমান বাহিনী’র হেলিকপ্টার পারাচেনারে অবস্থান নিয়েছে। আর যখনই তালেবান জঙ্গিরা ঈমান্দার শিয়াদের মোকাবেলায় দূর্বল হয়ে পড়ে এবং তাদের প্রতিরোধের মুখে হার মানতে বাধ্য হয়, ঠিক তখনই পাকিস্তান বিমান বাহিনী’র হেলিকপ্টারগুলো হতে শিয়া আত্মরক্ষীদেরকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয় এবং রাতের আঁধারেও শিয়া আত্মরক্ষীদের বাংকারগুলোকে লক্ষ্য করে কামানের গোলা ছোঁড়া হয়।

গত বুধবার হতে সরকারী সৈন্যদের সহযোগিতায় তালেবান জঙ্গিদের অবস্থান দৃঢ় হওয়ার পর হতে পাকিস্তান বিমান বাহিনী’র কোন হেলিকপ্টারই উড্ডয়ন করেনি এবং কোন বোমাও নিক্ষেপ করেনি। প্রকৃত অর্থে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার সমূহ –যা সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান ও তাদেরকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে পশ্চিমা দেশ সমূহ হতে ক্রয় করা হয়েছে- বর্তমানে দেশোদ্রোহী তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করে ঐ সকল জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে যারা দেশের স্বার্থে দেশদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে।

পাকিস্তানী প্রচার মাধ্যম সমূহের স্বীকারোক্তি

পাকিস্তান